সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) কি কখন এবং কিভাবে আদায় করবেন ?

আত্মকর্মসংস্থান কিসাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) কি? কখন এবং কিভাবে আদায় করবেন?

 সূচিপত্র: সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা)

সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) কি?

সাদকাতুল ফিতর বা (ফিতরা) হলো একটি বাধ্যতামূলক দান, যেটা রমজান মাসের শেষের দিকে এবং ঈদুল ফিতরের দিন গরীব এবং অসহায় মানুষদের দেওয়া হয়। এটি একটি ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সাদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

ফিতরা দেওয়ার উদ্দেশ্য

সাদকাতুল ফিতরা দেওয়ার মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

  1. রোজার সময় অনিচ্ছাকৃত ভুলের কাফফারা: রমজান মাসে রোজা পালনকালে যেসব ছোটখাটো ভুল হয় সাদকাতুল ফিতর মূলত সেই ভুলগুলোর কাফফারা হিসেবে কাজ করে।
  2. গরিব এবং অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দে শামিল: আমাদের সমাজে অনেক গরিব এবং অসহায় মানুষজন বসবাস করে তারা যেন ঈদের দিন কোন ভাবে খাবারের কষ্ট না পায় এবং পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে পারে সেজন্য সাদকাতুল ফিতর দেওয়া হয়।

ফিতরা দেওয়া কার উপর ফরজ

সামাজিকভাবে যেসব ব্যক্তিদের উপর সাদকাতুল ফিতরা প্রদান করা ফরজ :
  • হাদিসের মধ্যে আসছে যেসব ব্যক্তি মেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা যার কাছে সমপরিমাণ সম্পদ আছে তাকে অবশ্যই সাদকাতুল ফিতরা প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
  • কোন একটি পরিবারের পরিবার প্রধান এবং তার অধীনস্থ যে সব সদস্য পরিবারে বসবাস করে তাদের পক্ষ থেকেও সদকাতুল ফিতরা প্রদান করা  উত্তম যেমন: স্ত্রী, সন্তান, চাকর এবং যারা তার দায়িত্বে রয়েছেন।

সাদকাতুল ফিতরার নির্ধারিত পরিমাণ

সাদকাতুল ফিতরার পরিমাণ এক এক জায়গায় একেক ভাবে বলা হয়ে থাকে তবে রাসূলুল্লাহ (সা:) বিভিন্ন খাদ্যশস্যের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারণ করেছেন। সাধারণত যেসব খাদ্যশস্য দ্বারা সদকাতুল ফিতরা নির্ধারণ করা হয় বা দেওয়া হয় তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
  • গম এবং আটার ক্ষেত্রে সাদকাতুল ফিতরার পরিমাণ প্রায় ১.৭৫ কেজি।
  • খেজুর, যব, কিসমিস, এবং পনিরের ক্ষেত্রে প্রায় ৩.৫ কেজি।
বি:দ্র: বর্তমান প্রেক্ষাপটে  বাজার অনুযায়ী টাকার অংকেও সাদকাতুল ফিতরা আদায় করা হয় কারণ অনেক ক্ষেত্রে সবার জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয় না এক্ষেত্রে টাকার প্রয়োজন পড়ে।

ফিতরা দেওয়ার উপযুক্ত সময়

  1. সাদকাতুল ফিতরা দেওয়ার উপযুক্ত একটি সময় হল ঈদের আগের দিন রাত বা ঈদের দিন সালাতের আগে।
  2. এক্ষেত্রে কেউ যদি রমজান মাসের মধ্যেই সাদকাতুল ফিতরা দিয়ে দেয় সে ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই এবং ভালো।

যারা সাদকাতুল ফিতরা পাবে

  • দরিদ্র, গরিব, এবং অভাবগ্রস্ত মানুষজন।
  • যারা কোন কাজ করতে পারে না অত্যন্ত দরিদ্র।
  • অনেক মানুষজন আছে যারা ইসলামের পথে কাজ করে কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই।
  • মুক্তিপ্রাপ্ত দাস-দাসী বা বন্দীদেরও সদকাতুল ফিতরা দেওয়া জরুরি।
  • সর্বোপরি যেসব ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে বা যুদ্ধ করে এমন ব্যক্তি।


সাদকাতুল ফিতরার গুরুত্ব এবং ফজিলত

  1. ঈদের দিনে সবার সাথে বরকত এবং খুশি বিনিময় বৃদ্ধির একটি উপায় বা মাধ্যম।
  2. সাদকাতুল ফিতরা মূলত হল সমাজের গরীবদের সাহায্য করা এবং সামাজিক সাম্যতা প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম।
  3. এমনকি হাদিসে এসেছে বা বলা হয়েছে কেউ যদি ঈদের আগেই সাদকাতুল ফিতরা প্রদান করে তাহলে সে কবুলযোগ্য সাতকা হিসেবে গণ্য বা বিবেচিত।

উপসংহার

সাধারণত বলা যায় সাক্ষাতুল ফিতরা মূলত একটি আর্থিক দান নয় বরং এটি একটি আত্মশুদ্ধি এবং সামাজিক সংহতির উপায় বা প্রতীক বিশেষ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম ব্যক্তির উচিত ঈদের আগেই সাদকাতুল ফিতরা প্রদান করা যাতে সমাজের অতি দরিদ্র গরিব অসহায় ব্যক্তিরা ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে এবং উদযাপন করতে পারে।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আশিক টেক আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন প্রতিটা কমেন্টে রিভিউ করা হয় নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url