অল্প পুঁজি দিয়ে বেশি টাকা কামানোর সহজ উপায়

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড লোন পদ্ধতি অল্প পুঁজি দিয়ে বেশি টাকা কামানোর সহজ উপায় জানুন।


পেজ সূচিপত্রঃ অল্প পুঁজি দিয়ে বেশি টাকা কামানোর সহজ উপায়।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং করে আয়

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় এবং স্বাধীন পেশা। অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য সর্বপ্রথম দক্ষতা শিখতে হবে এবং তারপর বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নিচে ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু প্রক্রিয়া দেখানো হলো:

১. দক্ষতা অর্জন:
প্রথমত ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে এমন কিছু স্কিল শিখতে হবে যেটাতে আপনি পারদর্শী। নিচে কিছু জনপ্রিয় ফ্রিলান্সিং স্কিল দেওয়া হলো:
  • গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে লোগো ডিজাইন ব্যানার ডিজাইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ফ্রিল্যান্সিং পেশা।
  • HTML, CSS, JavaScript, ইত্যাদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।
  • অনলাইনে ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রে Adobe Photoshop, After effects ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
  • আবার ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে SEO, Facebook ads google Ads, অধিক জনপ্রিয়।
২. ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এবং একাউন্ট:
ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য নিচের জনপ্রিয় সাইট গুলোতে অ্যাকাউন্ট করে কাজ শুরু করতে পারেন-
  • Upwork-ওয়েব সাইটে account খোলার জন্য টাইপ করুন www.upwork.com
  • Fiverr-ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য টাইপ করুন www.fiverr.com
  • Freelancer-এ একাউন্ট খোলার জন্য টাইপ করুন www.freelancer.com
  • PeopleperHour-উক্ত ওয়েবসাইটে account খোলার জন্য টাইপ করুন www.peopleperhour.com
৩. পোর্টফলিও তৈরি :
অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্ট ধরে রাখার জন্য বা ক্লায়েন্টদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য আপনার কাজের নমুনা তথা পোর্টফোলিও তৈরি করুন। এক্ষেত্রে নতুন হলে নিজের পা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য কাজ করে সেটি পোর্টফোলিওতে এড করুন।

৪. কাস্টমারের সাথে ভালো যোগাযোগ:
মূলত কাস্টমার বা ক্লায়েন্টদের সাথে যত ভালো সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখবেন ততই কাজ পাওয়ার সুবিধা থাকবে বা ততই কাজ পাবেন। প্রতিটি ক্লায়েন্টদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তাবিত করুন এবং উক্ত কাজ সময়মতো ডেলিভারি দিন।।

৫. কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আপডেট:
অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সারদের অনেক প্রতিযোগী থাকে এজন্য নতুন নতুন স্কিল শিখতে হবে এবং সবটাই আপডেট করতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং


মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো একটি ব্যবসায়ী মডেল যেখানে আপনি অন্যের পণ্য বা পরিষেবা প্রচার করার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের উপর কাজ করে যথা:
১. বিক্রেতা: যিনি কোন কিছু বিক্রয় করেন তিনিই বিক্রেতা অতএব যিনি পণ্য বা পরিষেবা সরবরাহ করে থাকেন থাকেন।
২. অ্যাফিলিয়েট: এক্ষেত্রে তিনিই এফিলিয়ে ট যিনি প্রোডাক্ট সম্পর্কে প্রচার করেন এবং প্রতি বিক্রয়ে ভিত্তিতে কমিশন লাভ করেন।
৩. ভোক্তা: যিনি পণ্য ক্রয় করেন মূলত তিনিই ভোক্তা এক্ষেত্রে একজন ভোক্তা পুরোটা বা পরিষেবা কেনেন।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করে?
  • বিভিন্ন ধরনের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম যথা (Amazon, Associates, cJ Affiliate এর যেকোনো একটি মাধ্যমে বা প্রোগ্রামে যোগ দিন।
  • উল্লেখিত অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামগুলো আপনাকে এক ধরনের ইউনিক অ্যাফিলিয়েট লিংক দেবেন।
  • আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন youtube social মিডিয়া বা যে কোন অনলাইন প্লাটফর্মে সেই লিংক শেয়ার করে দিবেন।
  • আপনার শেয়ার করা লিংকের মাধ্যমে যদি কেউ পণ্য ক্রয় করে সেক্ষেত্রে আপনি কমিশন লাভ করবেন।
জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অ্যফিলিয়েট প্রোগ্রাম হচ্ছে অ্যামাজন এসসিয়েটস (Amazon Associates)
  • অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ প্রোডাক্ট এর জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত হল ক্লিক ব্যাংক (Click bank)
  • আপনি ভাবছেন বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করবেন এক্ষেত্রে ছি যে এফিলিয়ে ট গুরুত্বপূর্ণ (CJ Affiliate)
  • ShareASale অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বা বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বলা যায় আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে একটি মিস নির্বাচন করে নিতে হবে যেখানে ভালো কনটেন্ট এবং ধৈর্য ধরে লিঙ্ক প্রচার করতে হবে।

ইউটিউব ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন 

ইউটিউব ও কনটেন্ট ক্রিয়েট করা ক্ষেত্রে অল্প পুঁজি দিয়েও সেটা সম্ভব এক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করা দরকার। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল আলোচনা করা হলো:

১. সঠিক নিস নির্বাচন: প্রথমত আপনার দক্ষতা বা পছন্দ অনুযায়ী দর্শকরা ঠিক কি ধরনের চাহিদা বা কি পছন্দ করে সেই বিষয়ে নির্বাচন করুন। নিচে কিছু জনপ্রিয় নিজ দেওয়া হলো:
  • এডুকেশন ভিডিও বা টিউটোরিয়াল এর ক্ষেত্রে অনলাইন ইনকাম এবং প্রযুক্তি টিপস ব্যবহার্য।
  • ব্লগিং-একটা মানুষের চলাফেরা বা তার ডেইলি লাইফ কেমন বা ভ্রমণ এবং ফুড রিভিউ হতে পারে ইত্যাদি।
  • গেমিং-ধরুন আপনি কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে অনেক গেম খেলেন এক্ষেত্রে ভিডিও রেকর্ড করে ব্লগিং বা কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন।
২. সাশ্রয়ী মূল্যের সরঞ্জাম ব্যবহার:
  • স্মার্টফোন: এক্ষেত্রে ভালো মানের ক্যামেরা ওয়ালা ফোন থাকলেই যথেষ্ট যেমন আইফোন বা ভাল এন্ড্রয়েড ফোন ইত্যাদি।
  • ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার: মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ফ্রি তে এডিট করার জন্য CapCut, Kinemaster ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।
  • কিছু সস্তা মাইক্রোফোন কিন্তু কার্যকরী: যেকোনো ফোনের ইয়ারফোন অথবা Boya By-M1 ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারেন।
  • ন্যাচারাল লাইট বা সস্তা রিং লাইট ব্যবহার: সাধারণত দিনের বেলা অল্প আলোতেই শুট করা সম্ভব হয় এজন্য রিং লাইটে প্রয়োজন নেই।
৩.  ফ্রি টুল ব্যবহার:
  • থাম পে নিন বা যেকোনো ডিজাইনের ক্ষেত্রে আপনি Canva অথবা Pixellab ফি ব্যবহার করতে পারেন।
  • স্ক্রিপ্ট বা কনটেন্ট এর জন্য গুগল ডক্স বা নেশন ব্যবহার করতে পারেন।
  • অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজের জন্য বা মিউজিকের জন্য YouTube Audio Library অথবা Pixabay ইন্সটল করতে পারেন।
৪. SEO প্রমোশন করুন:
  • যেকোনো ধরনের ভিডিও তৈরি করতে ভিডিওর শিরোনাম বর্ণনা এবং ট্যাগ ইত্যাদি ঠিকমতো ব্যবহার করুন যাতে স্যার রেঙ্ক ভালো হয়।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যথা youtube Facebook, Instagram ইত্যাদি মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করুন।
৫. কন্সিস্টেন্সি বজায়:
প্রথম দিকে আপনি খুব একটা বেশি বেশি ভি উ বা সাবস্ক্রাইবার পাবেন না তবে নিয়মিত কনটেন্ট বা ভিডিও গুলো শেয়ার করতে হবে।



ড্রপশিপিং এবং ই কমার্স

১. ড্রপশিপিং বনাম ই কমার্স:

ড্রপশিপিং: এক্ষেত্রে কোন পণ্য স্টক না করে সরবরাহকারীর কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়।
ই-কমার্স: ই-কমার্স এর ক্ষেত্রে সাধারণত নিজস্ব ইনভেন্টরি রাখা হয় এবং পণ্য সরাসরি ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হয়।

ড্রপশিপিং শুরু করার ধাপ:
২. সঠিক নিস নির্বাচন: এক্ষেত্রে আপনি যে বাজারে প্রতিযোগী কম এবং উক্ত বাজার জনপ্রিয় সে বাজার বেছে নিন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ফিটনেস বা কোন প্রোডাক্ট বা কোন পোষা প্রাণীর পণ্য ইত্যাদি।
৩. সাপ্লায়ার খোঁজা: এক্ষেত্রে ভালো সরবরাহকারী খোঁজার জন্য আপনি AliExpress, CJ Dropshipping ইত্যাদি ব্যবহার করুন, কিন্তু মনে রাখতে হবে যাতে দ্রুত ডেলিভারি এবং যাদের ভালো রেটিং আছে এমন সাপ্লায়ার।

৪. মার্কেটিং করা:
  • এক্ষেত্রে ফ্রি মার্কেটিং করার জন্য আপনি Seo, Facebook, TikTok, and Pintesest ব্যবহার করুন।
  • বিভিন্ন ধরনের এডস (Ads) যথা Facebook Ads, Google Ads, TikTok Ads ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।
৫. সাধারণ ই কমার্স:
  • প্রথমত আন্তর্জাতিক মার্কেট বা পাইকারি মার্কেট থেকে প্রোডাক্ট সোর্সিং কিনুন
  • একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন যেভাবে যা নাম দিয়ে সহজ হয়।
  • ডেলিভারি পার্টনার খোঁজার জন্য আপনি নিকটস্থ কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করুন।
  • পূণ্য ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং এর জন্য বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা Facebook, Instagram এবং ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার করুন।
৬. পুঁজি:
  • ড্রপশিপিং এর ক্ষেত্রে ভালো ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের জন্য বাজেট ($100 - $500)
  • ই-কমার্স এর জন্য স্টক এবং মার্কেটিং এ বাজেট ধরা হয় ($500 - $2000)

প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসা

সাধারণত প্রিন্ট অন ডিমান্ড (Print On Demand) একটি ব্যবসায় মডেল যেখানে প্রতিটি পণ্যের কাস্টম ডিজাইন করা হয় যেমন টি-শার্ট, মগ, ফোনকেস, ইত্যাদি এগুলো ক্রেতার অর্ডার মোতাবেক প্রিন্ট করার পর ডেলিভারি দেওয়া হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে
  • প্রিন্ট অন ডিমান্ড এ পণ্য স্টক রাখার দরকার হয় না।
  • কোন উৎপাদনের জন্য কোন খরচ বা অগ্রিম টাকা পরিশোধ করা লাগে না।
  • এক্ষেত্রে পণ্যের ডিজাইন এবং মার্কেটিং এর উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কিভাবে অল্প পুঁজি নিয়ে প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসা শুরু করবেন:
১. নিস নির্বাচন: বাজারে প্রতিযোগী কম এবং জনপ্রিয় একটি বাজার টার্গেট করতে হবে যেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকে।
উদাহরণ:
  • অনেকেই বিভিন্ন প্রাণী কোষেন এক্ষেত্রে ডিজাইন।
  • যারা বিভিন্ন ধরনের গেমিং করে থাকেন তাদের জন্য t-shirt.
  • বিভিন্ন ধরনের ফিটনেস এবং মোটিভেশনাল কোর্টস তৈরি।
  • বিভিন্ন ধরনের মুভি অ্যানিমেশন বা স্পোর্টস ডিজাইন।
২. প্রিন্ট অন ডিমান্ড (POD) সরবরাহকারী:
POD প্লাটফর্ম সমূহ-
  • Printify-এক্ষেত্রে কম খরচ বিভিন্ন সরবরাহকারি আছে যারা printify করে।
  • Printful-এখানে ভালো মানের প্রোডাক্ট এবং পেন্টিং অপশন আছে।
  • Teespring-বিভিন্ন ধরনের মার্কেটপ্লেস সুবিধা এবং সহজ সেটআপ আছে।
  • বিভিন্ন ধরনের ফ্রি প্ল্যাটফর্ম আছে যেখানে স্টোর ছাড়াই বিক্রয় করা হয় যথাRedbubble, Zazzle ইত্যাদি।
৩. ডিজাইন তৈরি:
ডিজাইন তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্যানভা প্রো বা ফ্রী ভার্শন ব্যবহার করতে পারেন। আবার প্রফেশনাল ডিজাইন করার জন্য এডোবি ফটোশপ ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্লাটফর্ম যথা fiver এবং upword থেকে ডিজাইন হাইয়ার করতে পারবেন।
৪. স্টোর তৈরি:
  • সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রফেশনাল স্টোর হচ্ছে Shopify, and printful/printify.
  • যেকোনো মার্কেটপ্লেসের সহজে পণ্য বিক্রির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে Etsy, printify ইত্যাদি।
৫. ফ্রি মার্কেটিং প্লাস পেইড:
  • পণ্যের ডিজাইন ট্রেনিং বা পোস্ট করার জন্য প্রিন্টারেস্ট অথবা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করুন।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপে শেয়ার করুন।
  • অপটিমাইজেশনাল ব্লগ লিখুন SEO.
৬. কত পুঁজি লাগবে?
ফ্রি মার্কেটপ্লেসের জন্য ($0 - $50).
এবং ডোমেইন নেম হোস্টিং এবং অ্যাডস বাজেটের জন্য ($100 - $300).

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

অল্প পুঁজি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করার জন্য সঠিক দক্ষতা এবং কৌশল কাজে লাগাতে হবে। নিচে কার্যকরি কিছু কৌশল দেওয়া হলো:
1. ফ্রি মার্কেটিং কৌশল 
  • কনটেন্ট মার্কেটিং: এক্ষেত্রে মানসম্মত post, video, এবং যে কর্ম যে কোন ধরনের রিলস বা স্টরি শেয়ার বা পোস্ট করুন।
  • গ্রুপ অংশগ্রহণ: বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যথা facebook, লিংক ডইন গ্রুপে সক্রিয় থাকুন।
  • SEO অপ্টিমাইজড পোস্ট: এক্ষেত্রে কিওয়ার্ড এবং সঠিক হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
2. স্মার্ট বাজেটিং কৌশল:
  • লো বাজেট অ্যাডস: এক্ষেত্রে ফেসবুক এবং instagram এ ৫ থেকে ১০ ডলার বাজেটে টার্গেট বিজ্ঞাপন করুন।
  • অ্যানালিটিকস ব্যবহার: অনলাইন প্লাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন পোস্ট বেশি পারফর্ম করছে তা দেখে কন্টেন্ট স্ট্রাটেজি আপডেট করুন।।

পুরাতন পণ্য কেনাবেচা

পুরাতন পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অল্প পুঁজি নিয়ে একটি লাভবান ব্যবসায়ী হতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা এবং কৌশল অবলম্বন করতে হবে। নিচে কিভাবে অল্প পুঁজি নিয়ে পুরাতন পণ্য কেনাবেচা করবেন তার কিছু কৌশল দেখানো হলো:
1. কোন পণ্য কেনাবেচা করবেন?
  • ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ক্ষেত্রে পুরাতন মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব,  ফ্রিজ, ইত্যাদি হতে পারে।
  • ফার্নিচার আইটেমের জন্য কাঠের বা স্টিলের তৈরি যে কোন আসবাবপত্র ইত্যাদি।
  • যেকোনো ধরনের পুরাতন মোটরসাইকেল, বা বাইসাইকেল ইত্যাদি।
  • পোশাকের ক্ষেত্রে বা কাপড়ের ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের ব্র্যান্ডের পুরাতন পোশাক ব্যাগ জুতা ইত্যাদি হতে পারে।
  • গৃহস্থালী জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে পুরাতন রান্নাঘরের  সরঞ্জাম বা শোপিস ইত্যাদি।
2. কোথায় থেকে কিনবেন?
  • অনলাইন মার্কেট: যেকোনো ধরনের অনলাইন মার্কেটপ্লেস যথা:  Facebook, Bikroy, Clickbd ইত্যাদি।
  • লোকাল মার্কেট: পুরাতন জিনিসপত্রের ক্রয় বিক্রয় এর ক্ষেত্রে ঢাকা বায়তুল মোকাররম এবং চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার উল্লেখযোগ্য মার্কেট।
  • নিজের আপনজনদের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের পুরাতন জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে পারেন।।
3. যেভাবে পুনরায় বিক্রয় করবেন
  • অনলাইন প্লাটফর্ম: Facebook, Whatsapp, Bikroy.com etc.
  • লোকাল মার্কেটপ্লেস: কোন বাজারে নিজের দোকান থাকলে বিক্রয় করতে পারেন।
  • আপনার নিজের যদি কোন ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স স্টোর থাকে সেক্ষেত্রে বিক্রয় করতে পারবেন।
4. লাফোবান হওয়ার কয়েকটি টিপস:
  • পণ্য বা জিনিসপত্র কম দামে ভালো দেখে ক্রয় করবেন এবং বেশি দামে বিক্রয় করুন।
  • যে কোন জিনিস পত্রাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজার যাচাই-বাছাই করুন।
  • মনে রাখতে হবে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য ক্রেতা বিক্রেতা যেন হয়।
  • লেনদেনের জন্য সরাসরি ক্যাশ অথবা নিরাপদ পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করুন।

ব্লগিং ও কনটেন্ট রাইটিং করে আয়

অল্প পুঁজি নিয়ে অনলাইনে ব্লগিং বা কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা সম্ভব এক্ষেত্রে আপনার ধৈর্য এবং দক্ষতা প্রয়োজন। নিচে বিস্তারিত বলা হলো:

ব্লগিং করে আয়: 
  • ব্লগিং করার জন্য প্রথমত এমন একটা বিষয় নির্বাচন করতে হবে যেটাতে আপনি পারদর্শী এবং বাজারে চাহিদা রয়েছে।
  • বিভিন্ন ধরনের ব্লগিং বিষয়  নিশ রয়েছে যেমন: টেকনোলজি, স্বাস্থ্য, ট্রাভেলস, ফুড ব্লগিং ইত্যাদি।
1. ফ্রি বা কম খরচে ব্লগ:

  • ব্লগিং করার জন্য ফ্রি প্লাটফর্ম গুলো হলো: Medium, Blogger, WordPress.com etc.
  • স্বল্প খরচে প্রফেশনাল ব্লগসমূহ:
  • ডোমেইন নামের জন্য সাধারণত $10/বছর।
  • হোস্টিংয়ের জন্য $3 - $5/ মাস।
  • কিন্তু এখানে ওয়ার্ড প্রেস (WordPress) ফ্রি

2. ব্লগিং করে আয়ের উপায়:
  • গুগল এডসেন্সে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করা যায়।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পন্যের রিভিউ করে কমিশন আয় করা যায়।
  • স্পন্সরের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে আপনার ব্লগ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে উৎসাহিত করুন।
  • বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্ট যথা ই-বুক কোর্স বা টেমপ্লেট ইত্যাদি বিক্রয় করুন।

কনটেন্ট রাইটিং (Content writing) করে আয়:
1. দক্ষতা অর্জন:
  • লিখার জন্য বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট আছে যথা কপিরাইটিং, ব্লক রাইটিং, SEO রাইটিং ইত্যাদি।
  • ফ্রি কনটেন্ট লিখার কোর্স সমূহ উল্লেখযোগ্য-Udemy, Coursera, HubSpot, etc.
2. ফ্রিল্যান্সিং সাইটে একাউন্ট ক্রিয়েট বা খোলা:
আমরা আগেই উল্লেখ করেছি বা দেখিয়েছি যে বিভিন্ন সাইটে কিভাবে একাউন্ট খুলতে হয় সেটা উপরে (অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং করে আয়) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা আছে চাইলে দেখে নিতে পারেন।

3. ক্লায়েন্ট খুঁজুন:
  • Medium অথবা LinkedIn -এ আপনার পোর্টফোলিও ক্রিয়েট করুন।
  • বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মার্কেটপ্লেসগুলোতে জয়েন করুন।
4. আই বাড়ানোর কৌশল বা উপায়:
  • আপনার লেখা প্রতিটি শব্দ বা আর্টিকেল অনুযায়ী আপনি চার্জ বা মূল্য নির্ধারণ করুন এক্ষেত্রে $5 - $50.
  • যদি আপনি বেশি ক্লায়েন্ট পেয়ে যান তবে সেই ক্ষেত্রে টিম বানিয়ে আউটসোর্সিং করুন।
  • নিজের লিখা বা বানানো ব্লগ বা ওয়েবসাইট চালু করে সার্ভিস অফার পেশ করুন।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি

অল্প পুঁজি দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার ক্ষেত্রে আপনি যদি সঠিক কৌশল অবলম্বন করেন তাহলে বিনিয়োগ ছাড়াই ভালো মানের কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতে পারবেন এবং আয় করতে পারবেন।
1. বিষয়বস্তু নির্বাচন: বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু জনপ্রিয় নিস নিচে দেওয়া হলো:
  • বিভিন্ন ধরনের এডুকেশনাল যেমন টিউটোরিয়াল কোর্স ভাষা শিক্ষা ইত্যাদি এর যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আপনি ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট করতে পারেন।
  • ভালো রিভিউ এর জন্য আপনি মোবাইল ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন ধরনের গেজেট ব্যবহার করতে পারেন।
  • যদি কোন ব্লগ করার চিন্তা ভাবনা করেন তবে এক্ষেত্রে কোন মানুষের ডেইলি লাইফ বা আপনার ডেইলি লাইফ ট্রাভেল ফুড ব্লগ ইত্যাদি করতে পারেন।
  • যদি আপনি কোন কেমার হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে স্কিন রেকর্ডারের মাধ্যমে লাইফস্টিম বা গেম রিভিউ করতে পারেন।
  • দৈনন্দিন হেলথ এবং ফিটনেস এর জন্য ব্যায়াম ডায়েট মেডিকেল ইত্যাদি তৈরি করতে পারেন।
  • মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এবং বিভিন্ন অনলাইনে আয় সম্পর্কিত প্লাটফর্ম আছে যেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
  • যদি আপনি কোন এন্টারটেইনমেন্টার হয়ে থাকেন তবে সে ক্ষেত্রে ফানি ভিডিও শর্ট ফিল্ম এবং নাটক পোস্ট করতে পারেন।
2. মোবাইল অথবা কম্পিউটার দিয়ে ভিডিও তৈরি:

আপনি যখন শুরু করবেন তখন প্রথম দিকে ব্যয়বহুল ভালো ক্যামেরা না থাকলেও চলবে।
  • স্মার্টফোন: যারা স্মার্ট ফোন দিয়ে ভিডিও করার প্ল্যানিং করেন বা ভাবেন তারা মূলত 1080p বা 4k ভিডিও রেকর্ডিং মোড ব্যবহার করুন।
  • অনলাইনে ফ্রি ভিডিও এডিটিং এর জন্য মূলত কিছু সফটওয়্যার রয়েছে যেমন:
  • মোবাইলের জন্য উক্ত সফটওয়্যার গুলো হলো Kinemaster, inshot, capcut ইত্যাদি।
  • আবার কম্পিউটারের জন্য তো সফটওয়্যার গুলো হলো Davinic, Resolve ইত্যাদি।
  • সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো রাখার জন্য বেশি দামের ইয়ারফোন ব্যবহার না করে বয়া এম ওয়ান ব্যবহার করুন। এমনকি ফোনের অরিজিনাল মাইক্রোফোন ও ব্যবহার করতে পারেন।

3. ভিডিও আপলোড এবং অটোমাইজেশন:
  • ভিডিও টাইটেল বারের জন্য আকর্ষণীয় কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ হতে হবে।
  • যে ভিডিও আপনি পোস্ট বা শেয়ার করবেন তার জন্য সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিন।
  • বিভিন্ন ধরনের থাম্বনেল তৈরি করার জন্য canva pixellab করুন।
4. মনি টাইটেশন এবং আয় এর উপায়:
  • এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সাবস্ক্রাইবার যেমন ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা সময় ওয়াচ লাগবে।
  • এভাবে আপনি একটি সময় পর অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।
  • ভিডিও তৈরীর ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ করার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্লাটফর্মে অথবা অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে দিন।
  • আপনার চ্যানেল যদি বড় হয় সেক্ষেত্রে ব্র্যান্ড রা আপনাকে বিভিন্ন ধরনের স্পন্সর করবে।

লেখক এর শেষ মন্তব্য

অল্প পুঁজি নিয়ে বেশি টাকা আয় করার জন্য প্রথমত আপনার যেটা দরকার সেটা হলো ধৈর্য এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন। বিভিন্ন ধরনের ব্লগিং কন্টেন্ট রাইটিং ইউটিউব ফ্রিল্যান্সিং বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর যে কোন একটি আপনি দক্ষতা হিসেবে বা স্বাধীন পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
 
প্রথমদিকে আপনার আইকম হতে পারে কিন্তু পরবর্তী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বড় বা সম্প্রসারণ হতে থাকবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিশ্রম আপনাকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আশিক টেক আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন প্রতিটা কমেন্টে রিভিউ করা হয় নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url