বাংলাদেশ স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরী
আপেল খাওয়ার উপকারিতা এবং পুষ্টি গুনাগুন
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে বাজেট নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ আপনার
চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি সেরা ফোনটি নিতে পারেন নিচে বাজে নির্ধারণের
কিছু ধাপ দেওয়া হলো।
সূচিপত্র: বাংলাদেশে স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরী।
বাজেট নির্ধারণ
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কেনার okক্ষেত্রে বাজেট নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি সুষ্ঠু বাজেটের কারণে আপনার চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি সেরা ফোনটি
নিতে পারেন। নিচে বাজেট নির্ধারণের কয়েকটি ধাপ দেওয়া হলো:
নিজের প্রয়োজন:
- প্রথমত আপনাকে ডিসিশন নিতে হবে আপনি শুধুমাত্র কল বা মেসেজ এর জন্য ফোন ব্যবহার করবেন নাকি গেমিং বা ফটোগ্রাফি বা ভিডিও তৈরি করার জন্য ফোন ব্যবহার করবেন।
- যদি আপনি একটু উচ্চ পারফরমেন্স সম্পূর্ণ ফোন নিতে চান তাহলে বাজেট একটু বাড়াতে হবে।
- যদি শুধুমাত্র কল বা মেসেজের জন্য ফোন নিতে চান সেক্ষেত্রে বাজেট কম হবে।
বাজেট রেঞ্জ নির্ধারণ করুন:
- কম বাজেটের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০০০০ - ২০০০০টাকা।
- মাঝামাঝি বাজেটের জন্য ২০০০০ - ৫০০০০ টাকা.
- এক্ষেত্রে যদি আপনার বাজে ট অধিক হয় সে ক্ষেত্রে ফ্লেক্সিপ বা প্রিমিয়াম ফোনের জন্য ৫০০০০+টাকা।
এছাড়াও ফোনে থাকা বিভিন্ন ধরনের ফিচার স্পেসিফিকেশন যথা: প্রসেসর, র্যা্ম এবং
স্টরেজ, ডিসপ্লে এবং রিফ্রেশ রেট, ক্যামেরা এবং ব্যাটারি ইত্যাদি বিষয়গুলো
সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
সর্বোপরি স্মার্টফোন কেনার জন্য আপনাকে ব্র্যান্ড এবং সেই অনুযায়ী মডেল নির্বাচন
করতে হবে এবং অফার ও ডিসকাউন্ট দেখতে হবে।
প্রসেসর এবং পারফরমেন্স
যেকোনো স্মার্ট ফোন কেনার আগে পারফরম্যান্স এবং প্রসেসর সম্পর্কে জানা বা
যাচাই-বাছাই করা খুবই জরুরী। কারণ প্রসেসর হলো একটি মাধ্যম যা সরাসরি ফোনের সাথে
ফোনের গতি, মাল্টি টাস্কিং, গেমিং, এবং ব্যাটারির ব্যবহারের উপর প্রভাব রাখে।
নিচে প্রসেসর এবং পারফরম্যান্স সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
✓ প্রসেসর কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণত আমরা জানি প্রসেসর হলো স্মার্টফোনের মস্তিষ্ক, যার মাধ্যমে ফোনের সব কাজ
পরিচালনা করা হয়। যে ফোনে যত বেশি শক্তিশালী প্রসেসর সে ফোন তত দ্রুত কাজ করে
এবং ল্যাগ কম হয় ব্যাটারি ব্যবহারের কার্যক্ষমতা ও বেশি।
✓ জনপ্রিয় প্রসেসর ব্রান্ড এবং সিরিজ:
1. Qualcomm Snapdragon:
- ফ্লাগশিপ: মূলত প্রসেসরের ক্ষেত্রে Snapdragon 8 Gen (e.g Snapdragon 8 Gen 3)
- আপার মিড রেঞ্জের ক্ষেত্রে: Snapdragon 7 Gen (e.g Snapdragon 7+Gen 2)
- মিড রেঞ্জ: সাধারণত Snapdragon 6 সিরিজ (e.g Snapdragon 6 Gen 1)
- বাজেট: মূলত Snapdragon 4 সিরিজ(e.g Snapdragon 4 gen 2)
- ফ্লাগশিপ: মূলত প্রসেসর হলো Dimensity 9000/8000 সিরিজ (e.g Dimensity 9300, 8200 ইত্যাদ।
- মিড রেঞ্জ: এক্ষেত্রে সাধারণত প্রসেসর ব্যবহার করা হয় Dimensity 700/600 সিরিজ (e.g Dimensity 7050, 6100+)
- বাজেট: বাজেট অনুযায়ী মূলত Helio G সিরিজের(e.g Helio G99, G85) ব্যবহার করা হয়।
- ফ্ল্যাগশিপ:Apple A সিরিজের (e.g ...A17 pro, A16 Boinic) ব্যবহার করা হয়।
- ফ্ল্যাগশিপ: উক্ত বাজেটের মধ্যে স্যামসাং Exynos 2200, 2400 প্রসেসর ব্যবহার করে থাকে।
- মিড রেঞ্জ: তাদের বাজেট একটু মাঝারি সেক্ষেত্রে Exynos 1380, 1280 ইত্যাদি প্রসেসর ব্যবহার করে স্যামসাং।
- বাজেট: সাধারণ বাজেটের ক্ষেত্রে samsung Exynos 850 প্রসেসর ইউজ করে।
- ফ্ল্যাগশিপ: এক্ষেত্রে গুগল পিক্সেল Pixel ৪ সিরিজের Tensor G3 প্রসেসর ব্যবহার করে।
- পূর্ববর্তী জেনারেশন: মূলত আগের পর্যায়ে গুগল পিক্সেল Pixel 7 সিরিজের Tensor G2 প্রসেসর ব্যবহার করে।
র্যাম (RAM) এবং স্টোরেজ
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে র্যাম এবং স্টোরেজ নির্বাচন করা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। র্যাম এবং স্টোরেজ নির্বাচনের কিছু টিপস নিচে দেওয়া:
1. RAM (Random Access Memory): যে ফোনের র্যাম যত বেশি সে ফোনের পারফরম্যান্স ও
তত বেশি আবার মাল্টি টাস্কিং খুব ভালো।
- ৪GB RAM_মূলত সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েব ব্রাউজিং, এবং ইউটিউব ব্যবহারকারীদের জন্য 4gb রেম যথেষ্ট।
- ৬GB RAM_সাধারণভাবে মাঝারি গেমিং, মাল্টি টাস্কিং এবং কিছু অ্যাপ চালানোর জন্য যথেষ্ট।
- ৮GB RAM_মূলত গেমিং ভিডিও এডিটিং এবং প্রফেশনাল কাজের জন্য উপযোগি।
2. স্টোরেজ (ROM-Red Only Memory): এক্ষেত্রে একটি ফোনের স্টোরেজ যত বেশি হবে
সেই ফোনে তত বেশি ডকুমেন্ট ছবি এবং ভিডিও রাখা যাবে।
- ৬৪GB_যারা সাধারন মোবাইল ফোন ইউজার তাদের জন্য ৬৪ জিবি পারফেক্ট কিন্তু এক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি পূর্ণ হয়ে যায়।
- ১২৮GB_অনেক সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ফাইল ব্যবহার করে থাকি এক্ষেত্রে ১২৮ জিবি ভালো।
- ২৫৬GB_যারা অনেক বেশি গেমিং করেন বা ভিডিও এডিটিং করেন বড় বড় ফাইল সংরক্ষণ করেন তাদের জন্য ২৫৬ জিবি বেস্ট।
অতিরিক্ত কিছু টিপস:
- ফোনে মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট আছে কি সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে কারণ প্রয়োজন হলে আপনি স্টোরেজ বাড়াতে পারবেন।
- UFS (Universal Flash Storage ) যাকে টাইপ স্টোরেজ বলা হয় এ ক্ষেত্রে দুই দশমিক এক বা তিন দশমিক এক ভাল পারফরমেন্স উপযোগী।
ব্যাটারি এবং চার্জিং প্রযুক্তি
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কেনার আগে ব্যাটারি এবং চার্জিং প্রযুক্তি সম্পর্কে
জানা জরুরী কারণ এটি আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের উপর সরাসরি নির্ভর। যে ব্যাটারি
এবং চার্জিংয়ের প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো:
1. ব্যাটারির ক্ষমতা:
- মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার (mAh): সাধারণত ব্যাটারির ক্ষমতা পরিমাপ হলো mAh বা মিলি এম্পিয়ার আওয়ার।
- 4000mAh বা তার কম: স্বাভাবিক ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
- 4500mAh-5000mAh: সাধারণত যারা গড় বা অনেক বেশি ফোন ইউজ করে তাদের জন্য ভালো।
- 5000mAh+: এক্ষেত্রে যারা দীর্ঘ ব্যাটারী লাইফ চাচ্ছেন তাদের জন্য আদর্শ।
ব্যাটারি অপটিমাইজেশন: সাধারণত ব্যাটারির ক্ষমতা ছাড়াও ব্যাটারি অপটিমাইজেশন
অনেক গুরুত্বপূর্ণ যেমন: iPhone এর ব্যাটারি mAh তুলনামূলক কম হলেও আই ও এস iOS
এর অপটিমাইজেশন এর কারণে ব্যাটারি লাইফ দীর্ঘ বা বৃদ্ধি হয়।
2. ব্যাটারির ধরন:
- লিথিয়াম আয়ন (Li-ion): উক্ত ব্যাটারি অধিকাংশ ফোনে ব্যবহার করা হয় যার পারফরম্যান্স দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- লিথিয়াম পলিমার (Li-Po): উক্ত ব্যাটারি হালকা এবং পাতলা এবং কম গরম হয় এবং চার্জ ধরে রাখে।
3. চার্জিং প্রযুক্তি:
- ওয়াট (Wattage): এখানে উচ্চ ওয়ার্ড মানে হলো দ্রুত চার্জিং ব্যবস্থা।
- সাধারণ চার্জিং এর ক্ষেত্রে আমরা 10w-18w ব্যবহার করি।
- মাঝারি এবং দ্রুত চার্জিং এর ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত 25w-33w চার্জার ব্যবহার করে থাকি।
- আল্ট্রা ফাস্ট চার্জিং এর ক্ষেত্রে আমরা সবসময় চেষ্টা করি 45w-65w+ চার্জার ব্যবহার করার।
- বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তাদের নিজেদের কিছু চার্জিং প্রযুক্তি আছে যেমন: OnePlus, Realme, Xiaomi, এগুলা ব্র্যান্ড এক্ষেত্রে তাদের ব্যবহৃত চার্জিং প্রযুক্তি গুলি হলো SuperVooc/Warp/Hypercharge etc.
4. চার্জিং পোর্ট এর ধরন:
- USB Type-C: মূলত উক্ত চারজার পোর্টটি স্মার্টফোনে আধুনিক এবং দ্রুত চার্জিং ডাটা ট্রান্সফার করে থাকে।
- Micro-USB: সাধারণত পুরনো প্রযুক্তি যেটা বর্তমান সময়ে কম জনপ্রিয়।
5. ওয়ারলেস চার্জিং পদ্ধতি:
- যদি আপনি মনে মনে করেন যে কেবল ছাড়াও আপনি ফোন চার্জ করবেন সেক্ষেত্রে আপনি ওয়ারলেস চার্জিং সমর্থিত বা সাপোর্ট ফোন ক্রয় করবেন।
- এক্ষেত্রে মনে রাখার বিষয় হল ১০ ওয়াট বা তার বেশি ওয়ারলেস চার্জিং সাপোর্ট থাকলে বেশি ভালো হয়।
6. ব্যাটারি লাইফ: সাধারণত স্মার্টফোনের জন্য 5000mAh ব্যাটারি ভালো। এক্ষেত্রে
মনে রাখার বিষয় হল ৩০ ওয়াট এর বেশি ফাস্ট চার্জিং থাকলে দ্রুত চার্জ হয়।
আবার যদি প্রিমিয়াম ফোন হয় সেক্ষেত্রে ওয়্যারলেস চার্জিং অবশ্যই দেখা
প্রয়োজন।
ক্যামেরা পারফরমেন্স
স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরা পারফরম্যান্স দেখা বা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে আপনি যদি কোন ছবি বা ভিডিও তোলার আগ্রহী হন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই
ক্যামেরা যাচাই-বাছাই করে নিবেন। ভালো ক্যামেরার জন্য শুধুমাত্র মেগাপিক্সেল (mp)
যথেষ্ট নয় বরং অন্যান্য অনেক বিষয় রয়েছে নিচে তা দেওয়া হলো:
1. ক্যামেরার প্রধান স্পেসিফিকেশন মেগাপিক্সেল বনাম সেনসর সাইজ:
- অনেকেই আমরা মনে করি মেগাপিক্সেল বেশি হলে ভালো ছবি আসে কিন্তু সেটা না বরং সেন্সরের সাইজ যদি বড় হয় সে ক্ষেত্রে ভালো ছবি ক্যাপচার করা সহজ হয়।
- সাধারণত ক্যামেরা সেন্সর গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় সেন্সর গুলো হলো: Sony IMX, (IMX766, IMX989) & Samsung ISOCELL(GN1, GN2, GN3) ইত্যাদি।
- 50mp - 200mp সেন্সর হলে পিক্সেলবিনিং ব্যবহার করে ভালো ছবি তোলা যায়।
2. ক্যামেরার ধরন এবং লেন্স:
- প্রাইমারি ক্যামেরা: এক্ষেত্রে প্রধান সেন্সর 50mp, 64mp, 108mp.
- আল্ট্রা ওয়াইড: এখানে সম্মিলিত ছবি অথবা ল্যান্ড ইস্কেপের জন্য 12 mp.
- ম্যাক্রো সেন্সর: ম্যাক্রো সেনসর এর ক্ষেত্রে mp বেশি থাকলে ভালো হয় তবে শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য ভালো।
3. ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা:
- ৪k@60fps সাপোর্ট যদি থাকে তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো পারফরম্যান্স।
- ৮k ভিডিও অনেক ফোনে থাকলেও সেই ভাবে প্রয়োজনীয় নয় কারণ অনেক ফোনে বা স্ক্রিনে ৮k দেখা যায় না।
4. লো লাইট এবং নাইট মোড
- যদি স্মার্ট ফোনে বড় সেন্সর হয় সে ক্ষেত্রে লোলাইতে ভালো পারফরম্যান্স আশা করা যায়।
- নাইট মোড এর ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ভিত্তিক প্রসেসিং যা অন্ধকার হলেও ভালো ছবি তুলতে সহায়ক।
5. সেলফি ক্যামেরা:
- সেলফি ক্যামেরার জন্য ৩২mp বা তার যদি বেশি হয় সে ক্ষেত্রে ভালো। কিন্তু মনে রাখতে হবে সেন্সর সাইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- সাধারণত ফোনে যদি অটো ফোকাস সাপোর্ট মোড থাকে সেক্ষেত্রে সেলফি ক্লিয়ার দেখাবে।
ডিসপ্লে এবং রিফ্রেশ রেট
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন কেনার জন্য বা কেনার আগে ডিসপ্লে এবং রিফ্রেশের
সম্পর্কে জানা জরুরী। ডিসপ্লে এবং রিফ্রেশ রেট সরাসরি আপনার অভিজ্ঞতা এবং ফোনের
ব্যাটারি লাইফে প্রভাব ফেলে।
ডিসপ্লে নির্বাচনের বা বিবেচনার বিষয় সমূহ:
1. প্যানেল টাইপ:
- AMOLED/ OLED: সাধারণত এরূপ ডিসপ্লের ক্ষেত্রে বেশি উজ্জ্বল রং এবং ব্যাটারি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে ডাফল ব্যবহার করা উত্তম।
- IPS-LCD: কালার রেজুলেশন ভালো এবং ব্যাটারি সাশ্রয়ী।
2. রেজোলিউশন:
- এখানে সাধারণত বাজেট ফোনের জন্য HD+720P.
- যথাযথ ভালো ব্যালেন্স এবং মিড রেঞ্জের জন্য সাধারণত Full HD+ 1800P ব্যবহার করা হয়।
- QHD 1400p বা 4k ব্যবহার করা হয় ফ্লাইকসিপ ফোন যথা ভালো মানের গেমিং বা ভিডিও এডিটিং এর জন্য।
3. HDR SUPPORT: এক্ষেত্রে যদি HDR10/ HDR10+থাকে সেক্ষেত্রে ভিডিও দেখার উন্নত
অভিজ্ঞতা হয়।
4. রিফ্রেশ রেট:
- 60Hz: বেশিরভাগ বাজেটের ফোনে স্টান্ডার্ড মোড পাওয়া যায়।
- 90Hz: এক্ষেত্রে অ্যানিমেশন তুলনামূলকভাবে স্মুথভাবে পরিচালিত হয়।
- 120Hz: সাধারণত গেমিং এবং ভালো এক্সপেরিয়েন্স ইউজারদের জন্য পারফেক্ট।
- 144Hz: সাধারণত উচ্চ গেমিং ফোন যারা ব্যবহার করেন তাদের জন্য উত্তম।
নেটওয়ার্ক এন্ড কানেক্টিভিটি
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ইউজার যারা তারা অবশ্যই স্মার্টফোন কেনার আগে
নেটওয়ার্ক এবং কানেক্টিভিটি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিবেন।
1. নেটওয়ার্ক সাপোর্ট:
- 2G, 3G, 4G, 5G: মূলত নেটওয়ার্ক সাপোর্টের জন্য নিশ্চিত হতে হবে ফোনে কোন নেটওয়ার্ক এ সাপোর্ট করে। বর্তমান সময়ে মূলত স্মার্টফোনগুলোতে 5G নেটওয়ার্ক সাপোর্টেড এবং ভবিষ্যতের জন্য খুবই ভালো।
- VoLTE এবং VoWiFi: সাধারণত উন্নত মানের কলের জন্য ব্যবহার করা হয় এই ফিচারগুলো।
2. ব্র্যান্ড সাপোর্ট:
- এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই জেনে নিবেন যে আপনার দেশের মোবাইল অপারেটর যেসব ফ্রিকোয়েন্সি ব্র্যান্ড ব্যবহার করে সেগুলো আপনার ফোনটিতে আছে কিনা বা সাপোর্ট করে কিনা।
- উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে বাংলাদেশ 4G LTE 3 (1800MHz),8 (900MHz) এবং 5G এর ক্ষেত্রে n78(3500MHz) সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।
3.Wi-Fi :
- যারা ফোনে অনেক দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা তথা ওয়াইফাই (Wi-Fi) ব্যবহার করতে চান তারা (802.11ax).
- ডুয়াল ব্রান্ড 2.4GHz & 5GHz): যারা লাইভ স্ট্রিমি বা যে কোন ধরনের স্ট্রিম করেন এবং ব্রাউজিং করেন তাদের জন্য উপযোগী।
4. ব্লুটুথ এবং অন্যান্য:
- ব্লুটুথ এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্বশেষ সংস্করণ 5.0/ 5.1/ 5.2 থাকলে পারফরম্যান্স ভালো হয়।
- NFC: দ্রুত ডেটা শেয়ারিং এবং কন্টাক্টলেস পেমেন্ট এর জন্য এনএফসি বিশেষভাবে প্রয়োজন।
- USB Type-C: ফোনের দ্রুত চার্জিং এবং ডেটা দ্রুত ট্রান্সফারের জন্য টাইপ সি কেবল খুবই প্রয়োজনীয়।
5. সিম কার্ড এবং ই-সিম সাপোর্টেড:
- ডুয়াল সিম: যদি আপনি একের অধিক সিম ফোনে ব্যবহার করতে চান তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দেখতে হবে ডুয়াল সিম সাপোর্টেড আছে কি না।
- ই-সিম: যে কোন স্মার্ট ফোনে ভবিষ্যৎ চিন্তা ভাবনাই ই_সিম সাপোর্টেড থাকা খুবই জরুরী।
অপারেটিং সিস্টেম এবং আপডেট সাপোর্ট
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ক্রয় এর ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম এবং আপডেট
সম্পর্কিত সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করুন কারণ, অপারেটিং সিস্টেম এবং আপডেট আপনার
ফোনের দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স এবং নিরাপত্তা ও নতুন ফিচার সমূহের নিশ্চয়তা
দিয়ে থাকে। নিচে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হলো:
1. অপারেটিং সিস্টেমের ধরন এবং নির্বাচন:
- এন্ড্রয়েড (Android): বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডের ফোন আছে যেগুলোতে কাস্টমাইজেশন এবং বৈচিত্র্যের সুযোগ সুবিধা আছে।
- iOS (Apple iPhone): অ্যাপেল বা আইফোনের ক্ষেত্রে সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদী আপডেট এবং নিরাপত্তা ও সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন।
2. আপডেট সাপোর্ট এবং সময়সীমা:
- এন্ড্রয়েড ব্র্যান্ড ভিত্তিক ফোন গুলোর আপডেট সাপোর্ট
iphone:
ব্যান্ড | আপডেট | সিকিউরিটি আপডেট |
---|---|---|
Google pixel | ৭+ বছর | ৭+ বছর |
Samsung ( S/ সিরিজ ) | ৪-৫ বছর | ৫+ বছর |
Samsung ( A/ সিরিজ ) | ৩-৪ বছর | ৪+ বছর |
Oneplus | ৪ বছর | ৫ বছর |
xiaomi | ৩-৪ বছর | ৪+ বছর |
Oppo/Vivo/realme | ২-৩ বছর | ৩+ বছর |
- সাধারণত অ্যাপেল বা আইফোনের ক্ষেত্রে ৫-৬ বছর পর্যন্ত আই ও এস আপডেট সুবিধা পায় যথা: (iphone 11 এখনো iOS 17 সুবিধা পাচ্ছে)
- iphone 13 বা বর্তমান সময়ে যে নতুন ফোন গুলো আসছে সেগুলো ক্রয় করলে আরো দীর্ঘ সময় আপডেট পাবেন।
3. সিকিউরিটি আপডেট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- স্মার্ট ফোন গুলোকে সাধারণত নতুন ভাইরাস এও মলুয়ার থেকে সুরক্ষা রাখার জন্য নিয়মিত সিকিউরিটি প্যাচ প্রয়োজন।
- দৈনদ্দিন কার্যক্রম যথা ব্যাংকিং অ্যাপ, অফিশিয়াল কাজ, এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত ডেটা সংরক্ষণ করার জন্য আপডেট সর্বদা জরুরী।
4. নতুন ফোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেভাবে যাচাই করবেন?
- সরাসরি আপনি ফোনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করে আপডেট সম্পর্কিত পলিসি গুলো দেখুন।
- যোগাযোগ মাধ্যম যেমন google বা ইউটিউবে আপনি নির্দিষ্ট মডেলের ফোনের নাম সার্চ করে আপডেট সাপোর্ট সম্পর্কিত তথ্যগুলো অনুসন্ধান করতে পারেন।
- samsung গুগল পিক্সেল, বা আইফোনের মত যে কোন ধরনের ব্র্যান্ডের ফোন কিনলে আপনি খুব সহজেই দীর্ঘমেয়াদী আপডেট পাবেন।
সেরা বিকল্প পদ্ধতি:
- আপনি যদি দীর্ঘ মেয়াদী আপডেট সুবিধা পেতে চান তবে সে ক্ষেত্রে google pixel, Samsung s সিরিজের ফোন গুলো ক্রয় করুন।
- আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী Samsung A সিরিজ OnePlus Nord, এবং Xiaomi ফোন নিতে পারেন।
- যদি মনে করেন মাত্র দুই থেকে তিন বছর ব্যবহার করবেন তবে সেই ক্ষেত্রে Realmi, vivo, oppo, infinix, etc ক্রয় করতে পারেন।
ব্র্যান্ড এবং বিক্রয় সেবা (Warranty Service)
স্মার্ট ফোন কেনার আগে আপনি ব্র্যান্ড এবং বিক্রয় (After Sales Services)
সংক্রান্ত সেবা গুলি যাচাই-বাছাই করে নিবেন কারণ একটি আপনার ফোনের দীর্ঘমেয়াদি
ব্যবহারযোগ্য এবং অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে থাকে।
স্মার্ট ফোন কেনার আগে আপনি আপডেট সাপোর্ট, হার্ডওয়ার কোয়ালিটি, ভ্যালু
ফর মানি, গ্রাহক সেবা এবং ওয়ারেন্টি, ইত্যাদি তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে নিবেন।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিক্রয় সেবা এবং তাদের রেপুটেশন:
Apple (iphone):
- সাধারণত ওয়ারেন্টি এক বছর স্ট্যান্ডার্ড। তবে যদি অ্যাপেল কেয়ার প্লাস (Apple care+)থাকে তবে সেক্ষেত্রে দুই থেকে তিন বছর সার্ভিস পেতে পারেন।
- অ্যাপেল আইফোনের ক্ষেত্রে আপনি উন্নত মানের সার্ভিস সেন্টার এবং খুচরা যন্ত্রাংশ পাবেন।
- এক্ষেত্রে আপনাকে দাম বেশি এবং রিপেয়ার খরচও বেশি প্রদান করতে হবে।
Samsung :
- samsung এর ক্ষেত্রে সাধারণত ওয়ারেন্টি এক বছর তবে আমাদের দেশে দুই বছর দিয়ে থাকে।
- এর সার্ভিস সেন্টার পুরা বিশ্বব্যাপী খুবই শক্তিশালী এবং সহজলভ্য।
- samsung এর খুচরা পার্ক আমাদের দেশে সহজলভ্য সব সময়।
- samsung এর ক্ষেত্রে বাজেট ফোনগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট সুবিধা তুলনামূলকভাবে সবসময় কম হয়ে থাকে।
Google pixel:
- সাধারণত ওয়ারেন্টি এক থেকে দুই বছর হতে পারে তবে দেশভেদে আলাদা হয়।
- এক্ষেত্রে গুগল পিক্সেলের সফটওয়ার আপডেট সর্বোচ্চ সেরা।
OnePlus:
- যদি আপনি ফ্ল্যাগশীপ ফোন ক্রয় করেন তবে ওয়ান প্লাস সেরা।
- ওয়ানপ্লাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদি আপডেট গুলো ফ্লাগশিপ মডেলের ক্ষেত্রে উপযোগী।
- মনে রাখতে হবে বাজেট ফোনের ক্ষেত্রে ওয়ান প্লাসের আপডেট স্বল্প বা খুবই কম।
Xiaomi :
- শাওমি তাদের বাজেট ফোনের মধ্যে ভালো স্পেসিফিকেশন দিয়ে থাকে।
- আবার তাদের ফ্লাগশিপ ফোনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি আপডেট পাওয়া যায়।
- শাওমির সার্ভিস সেন্টার এর মান বিভিন্ন দেশ ভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
- শাওমির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার বাক বা বিজ্ঞাপন সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
Realmi, Oppo, Vivo:
- যদি আপনি ডিজাইন এবং ক্যামেরা ফোকাস্ট নিতে চান তবে realme, oppo, vivoআপনার জন্য ভালো হবে।
- উক্ত ফোন গুলার মধ্যে ফ্লাগশিপ সম্বলিত ফোন গুলোতে আপডেট ভালো পাওয়া যায়।
[সর্বশেষ আপনি ফোন কেনার আগে বিক্রয় সেবা বা পরীক্ষা করার জন্য আপনি সার্ভিস
সেন্টার এর কাছাকাছি অবস্থান, ওয়ারেন্টি ও রিপেয়ার পলিসি অনলাইন রিভিউ ও
ইউজার ফিডব্যাক, এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য, ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য বিভিন্ন
ওয়েবসাইট বা ব্রাউজার এর মাধ্যমে অনুসন্ধান করে নিবেন]
লেখক এর শেষ মন্তব্য
স্মার্ট ফোন কেনার আগে নিজের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সঠিক একটি ব্যান্ড পছন্দ করা। যেমন ব্যাটারি ব্যাকআপ
ক্যামেরা পারফরম্যান্স সফটওয়্যার আপডেট সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জানতে হবে,
এবং এই সব কিছু বিবেচনা নিয়ে তুলনামূলক সেরা ফোনটি পছন্দ করুন কোন ফোন কেনার আগে
বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রিভিউ দেখা বা ব্যবহারকারীদের মতামত নেওয়া বুদ্ধিমানের
কাজ।
আশিক টেক আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন প্রতিটা কমেন্টে রিভিউ করা হয় নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url