বাংলাদেশের সরকারি সহায়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য লোন পাওয়ার ১০ টি সহজ উপায়
২০২৫ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি লাভজনক কৃষি ব্যবসা বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে সরকারি সহায়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য লোন পাওয়া এখন আগে চেয়ে অনেক সহজ। এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলো বিভিন্ন সংস্থা ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে বিভিন্ন ধরনের ঋণ স্কিম চালু করেছে ইতিমধ্যে।
পেজ সূচিপত্র: বাংলাদেশের সরকারি সহায়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য লোন পাওয়ার ১০ টি সহজ উপায়
- বাংলাদেশ ব্যাংকের SME পুনঃঅর্থায়ন লোন স্কিম
- প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজের লোন আওতা
- জনতা, সোনালী, রূপালী, এবং অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের ক্ষুদ্র ব্যবসা লোন
- পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন এর ক্ষুদ্র লোন সুবিধা
- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব উদ্যোক্তা লোন
- উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ লোন সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক ও এস এম ই SME ফাউন্ডেশন
- সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় লোন
- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোন
- ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় লোনের আবেদন
- লেখকের শেষ মন্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের SME পুনঃঅর্থায়ন লোন স্কিম
SME (Small and Medium Enterprise) মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পুনঃঅর্থায়ন লোন
স্কিম। মূলত ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য সহায়তা এবং
পরিচালিত করা হয়। মূলত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া হয় যাতে
উদ্যোগ তারা সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ পেতে আগ্রহী হয়।
উক্ত স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো:
- নিম্ন সুদের হার: এক্ষেত্রে উক্ত ইস্কিমে সাধারণত ৪%-৯% পর্যন্ত সুদের হার নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ধরনের সুবিধা: এক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তারা তুলনামূলকভাবে কম সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
- সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ: এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী 50 হাজার থেকে 50 লাখ বা তারও বেশি পর্যন্ত আপনি লোন পেতে পারেন।
- সুবিধা ভোগী প্রতিষ্ঠান: বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যেমন উৎপাদন, সেবা এবং বাণিজ্য খাতে ইত্যাদি প্রভৃতি বিশেষ।
- ফেরতযোগ্য সময়সীমা: ঋণ নেওয়ার পরবর্তী এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সাধারণত পরিষদের সময়সীমা দেওয়া হয়।
- জামানত: এক্ষেত্রে আপনার নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত বা ব্যবসার সক্ষমতার ভিত্তিতেই জামানত ছাড়াই আপনাকে ঋণ প্রদান করা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া:
- উপযুক্ত ব্যাংক নির্বাচন: বাংলাদেশে অনুমোদিত সোনালী ব্যাংক জনতা ব্যাংক রূপালী ব্যাংক সহজে কোন ব্যাংকে আপনি আবেদন করতে পারেন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- জাতীয় পরিচয় পত্র তথা NID
- আপনার ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স
- আপনার ব্যাংক হিসাব স্টেটমেন্ট
- TIN সার্টিফিকেট
- উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতার প্রমাণ বিশেষ।
আবেদন জমা এবং পর্যালোচনা:
এক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক আপনার আবেদন পত্র যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে অবশ্যই
লোন প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজের লোন আওতা
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য
প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে। এখানে বিশেষ করে কোভিড ১৯ পরবর্তী
সময়ে ব্যবসা পুনরুদ্ধার এবং সম্প্রসারণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূল বৈশিষ্ট্য:
1. লোনের পরিমাণ:
- সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন সুবিধা পাওয়া যাবে।
2. সুদের হার:
- এক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি প্রদান করায় উদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার ৪%-৯%
3. ফেরতযোগ্য সময়সীমা:
- এক্ষেত্রে লোন পাওয়ার পরবর্তী পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।
4. জামানত:
- জামানতের ক্ষেত্রে অনেক সময় জামানো ছাড়াই ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে তবে বড় পরিমাণে ব্যবসায়ের জন্য ব্যবসার স্থিতিশীলতা এবং আয় বিবেচনা করে জামানত গ্রহণ করা হয়।
5. উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
এক্ষেত্রে যারা নারী উদ্যোক্তা আছেন তাদের বিশেষ সুবিধা জনক শর্তে লোন প্রদান
করা হয়।
6. লক্ষ্ খাত:
- যারা এই ঋণ সুবিধা গুলো নিতে পারবে তাদের মধ্যে অন্যতম উৎপাদন, সেবা ও ক্ষুদ্র, বাণিজ্য খাতের উদ্যোক্তারা ইত্যাদি।
আবেদন প্রকিয়া:
1. লোন আবেদনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাংকগুলোতে আবেদন করা যায় যেমন
সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ইসলামী
ব্যাংক ইত্যাদি।
2. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
লোন আবেদনের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই ওপরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আলোচনা বা
বিস্তারিত বলেছি। চাইলে আপনি দেখে নিতে পারেন।
জনতা, সোনালী, রূপালী, এবং অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের ক্ষুদ্র ব্যবসা লোন
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ
ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। নিচে জনতা ব্যাংকে এবং সোনালী ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ
ব্যবসার তথ্য আলোচনা করা হলো:
জনতা ব্যাংক:
1. চলতি মূলধন ঋণ: কোন একটি ব্যবসায়ী চলমান আছে তার জন্য জনতা ব্যাংক চলতি
মূলধন ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী চলমান এবং
পর্যাপ্ত জামানত থাকা অতি আবশ্যক। এক্ষেত্রে ঋণের সীমা ৫০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু
হয় এবং সুদের ওপর ৯% পার্সেন্ট হারে পরিবর্তনশীল হয়। উল্লেখ্য যে সাধারণত
ঋণের মেয়াদ এক বছর হয় তবে বিশেষ ক্ষেত্রে তা বাড়ানো যায়। মনে রাখতে হবে
জামানত হিসেবে আপনার প্রস্তাবিত ঋণের ওপর এত ১.৫ গুণ সম্পদ জমা রাখা হয়।
2. বিশেষায়িত ঋণ: জনতা ব্যাংক মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁত
ঋণসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিশেষ সাহিত্য এক ধরনের ঋণ প্রদান করে থাকে। মনে রাখতে
হবে উক্ত ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স থাকা জরুরী। এক্ষেত্রে
ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জামানত ছাড়া। এবং সুদের হার ৭% থেকে ১০%
পার্সেন্ট এর মধ্যেই পরিবর্তিত হয়ে থাকে। ঋণের মেয়াদ সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর
এবং মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।
সোনালী ব্যাংক:
1. SME ঋণ: মূলত সোনালী ব্যাংক ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এস এম ই
ব্যবসায়িক ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্ধারিত ফর্মে
আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই
ঋণের পরিমাণ সুদের হার এবং ঋণ পরিশোধের শর্তাবলী ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী
নির্ধারিত হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ:
- আপনার ব্যবসার বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আবশ্যক।
- ঋণ আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
- অবশ্যই আইকড় শনাক্তকরণ নম্বর বা টিন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
- আপনার ব্যবসার সর্বশেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিন বা দাখিল করুন।
- সর্বোপরি ট্যাক্স রিটার্ন বা অন্যান্য কাগজপত্রাদি জমা দিন।
- সুদের হার: মূলত সুদের হার 8 থেকে 13 পার্সেন্ট যা আপনার ঋণের ধরন মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়।
- ঋণের মেয়াদ: এক্ষেত্রে সাধারণত ঋণের মেয়াদ ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।
অন্যান্য সরকারি ব্যাংক:
এক্ষেত্রে রূপালী ব্যাংক সহ অন্যান্য সরকারি ব্যাংকও ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন
ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকে। অবশ্যই প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা
এবং শর্তাবলী আছে। এক্ষেত্রে বলা যায় অবশ্যই সরাসরি নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায়
যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক।
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন এর ক্ষুদ্র লোন সুবিধা
(PKSF) পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান
যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য সর্বদা কাজ করে থাকে এবং
সহযোগিতা করে। তারা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে থাকে
যা দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান এবং আয় বৃদ্ধিতে অতি
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ঋণ কার্যক্রমের মধ্যে যা রয়েছে:
- সাধারণ ঋণ: এক্ষেত্রে সাধারণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বনির্ভরতা বাড়াতে বা অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হয়।
- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ: এক্ষেত্রে যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদের ব্যবসায়ী কার্যক্রম সম্প্রসারণ এর জন্য আর্থিক সহায়তা বা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ঋণ কার্যক্রমের সুদের হার সময়ে সময়ে
পরিবর্তন হয়ে আসছে। যেমন বলা যায় ২০২০ সালে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য
প্রণোদনা রিদে ঋণের সুদের হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা
হয়েছে।
বি:দ্র: মনে রাখার একটি বিষয় হলো পল্লী কর্মসংস্থান সহায়ক ফাউন্ডেশন সরাসরি
ঋণ প্রদান করে না বরং তাদের অংশীদার এবং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের ঋণ
সেবা দিয়ে থাকে। ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি যদি পল্লী কর্মসংস্থান সহায়ক ফাউন্ডেশন
থেকে ঋণ নিতে চান তবে তাদের অংশীদার বা সংস্থাগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব উদ্যোক্তা লোন
বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর তাদের প্রশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে
তোলার জন্য ঋণ সহায়তা প্রদান করে থাকে। উক্ত ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেকটি যুবক তাদের নিজস্ব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য
সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে প্রাথমিকভাবে পুঁজি পায়।
আবেদন প্রক্রিয়া:
- প্রশিক্ষণ সমাপ্তি: এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে বা গ্রহণ করতে হবে।
- আবেদনপত্র সংগ্রহ: অবশ্যই আপনি প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দশ টাকা মূল্যের নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করবেন।
- আবেদনপত্র জমা: আপনার সংগ্রহকৃত আবেদন পত্রটি সঠিকভাবে পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিন বা দাখিল করুন।
- যাচাই-বাছাই: এক্ষেত্রে অবশ্যই আবেদন পত্র যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে সঠিক আবেদনকারীর ঋণ মঞ্জুর করা হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহ:
- আপনার প্রশিক্ষণ সনদপত্র
- জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি
- আপনার প্রকল্পিত প্রস্তাবনা
- অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন আপনার জামিনদারের প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ।
সেবা প্রাপ্তির সময়সীমা:
এক্ষেত্রে সাধারনত আবেদন পত্র জমা দেওয়ার পর ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ঋণ মঞ্জুর
করা বা গ্রহণ করা হয়।
সুবিধাভোগীদের অধিকার বা অগ্রাধিকার:
এক্ষেত্রে অবশ্যই নারী এবং তৃতীয় কোন লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন
ব্যক্তিদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হয়।
যোগাযোগের ঠিকানা: বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি অবশ্যই আপনার নিকটস্থ উপজেলা যুব
উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে যোগাযোগ করুন।
উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ লোন সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক ও এস এম ই SME ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এফ এম ই ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের
বিভিন্ন ধরনের বিল সেবা প্রদান করে থাকে যা ক্ষুদ্র মাঝারি এবং কুটির শিল্পে
উন্নয়নে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে বা উন্নয়ন করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ: বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ধরনের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য
সহজ শর্ত মোতাবেক ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণ
করেছে ইতিমধ্যে। এক্ষেত্রে এস এম ই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ এক ধরনের
ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়।
এস এম ই (SME) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ: মূলত আমরা জানি এসএমই ফাউন্ডেশন তারা নিজেরা
সরাসরি ঋণ দেয় না। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের
মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে থাকে। এসএমই ফাউন্ডেশন মূলত অর্থায়ন সহজীকরণ ঋণ প্রবাহ
বৃদ্ধি সচেতনতা তৈরি এবং উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের
লক্ষ্যে সর্বদা কাজ করে থাকে।
ঋণ প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ:
এক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিকভাবে আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।
- আপনার ব্যবসার নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্সের কপি।
- আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি অথবা আবেদনকারী বা জামিনদারের তথ্যসমূহ।
- আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- আপনার ব্যাংক হিসাব বিবরণী।
- আপনার ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্রাদি।
সর্বোপরি বলা যায় ঋণ আবেদনের জন্য আপনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের নিকট
সরাসরি যোগাযোগ করুন এক্ষেত্রে আপনি তাদের নিজস্ব নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় ঋণ
প্রদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্যের প্রয়োজন হয়
তবে এসএমই ফাউন্ডেসনের ওয়েবসাইট হতে তা জানতে পারবেন।
সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় লোন
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবসায়ীগণ ক্ষুদ্র লোন
পেতে পারেন। বাংলাদেশ সমবায় সমিতি অধিদপ্তর বিভিন্ন সমবায় সংগঠনের মাধ্যমে
ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা প্রদান করে থাকে। নিচে লোন
পাবার কিছু নিম্নলিখিত ধাপ আলোচনা করা হলো:
1. সদস্য পদ গ্রহণ: প্রথমত লোনপাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে একটি নিবন্ধিত
সমবায় সমিতির সদস্য হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ সমবায় সমিতির সাথে
যোগাযোগ করে সদস্যপদ গ্রহণ করুন।
2. আবেদন পত্র পূরণ: লোন পাবার জন্য অবশ্যই আপনাকে নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ
করতে হবে। উক্ত আবেদন ফরমে আপনি আপনার ব্যবসার ধরন উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়
অর্থের পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করবেন।
3. যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদন: সমবায় সমিতি আপনার আবেদন পত্রটি যাচাই-বাছাই করার
মাধ্যমে আপনার ব্যবসার সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করে থাকে। এক্ষেত্রে যদি আবেদনটি
অনুমোদিত হয় তবেই আপনি লোন পাবেন।
4. লোন প্রদান এবং পরিশোধ: সমবায় সমিতি তাদের অনুমোদিত লোন নির্দিষ্ট
শর্তাবলীর অধীনে পরিশোধযোগ্য। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে আপনি কিস্তিতেও লোন
পরিশোধ করতে পারেন।
লোনের ধরন এবং সুবিধা:
- সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি
- সুদের হার কম হয়
- ঋণ দীর্ঘমেয়াদে পরিষদের সুবিধা থাকে
- উল্লেখিত আপনি সমবায় সমিতি থেকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক উভয়ই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের
অর্থায়নের জন্য ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকেন। নিচে কিছু বিস্তারিত তথ্য নিয়ে
আলোচনা করা হলো:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অনেকাংশেই ক্ষুদ্র এবং মাঝারি
ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের জন্য এবং তাদের ব্যবসায়ী সম্প্রসারণ এবং বৃদ্ধি
করার জন্য ঋণ প্রদান করে। এক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ধরনের ঋণের
সুবিধা আছে। এক্ষেত্রে উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে নাদি উদ্যোক্তাদের জন্য সি
এম এস এম ই পূর্ণঅর্থায়ন ঋণের সুবিধা আছে। ঋণের পরিমাণ সুদের হার এবং
পরিশোধের মেয়াদ আপনার প্রকল্পের ধরন এবং ব্যবসার আকার আকৃতির ওপর বিশেষভাবে
নির্ভর করে। সাধারণভাবে বলা যায় প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের
পরিমাণ নিম্নতম এক লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে থাকে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাস ফেরত
ব্যাক্তিদের জন্য পুনর্বাসন ঋণ প্রদান করেন যা তাদের দেশে ফিরে গিয়ে ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ী পরিচালনা করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। এই দিনের জন্য অবশ্যই
আবেদনকারী কে প্রবাস প্রত্যাবর্তনের পাঁচ বছরের মধ্যে আবেদন করতে হয় এবং বৈধ
সকল কাগজপত্রাদি দাখিল করতে হয়। এছাড়াও বাংলাদেশে প্রচলিত আত্মকর্মসংস্থান
মূলক ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ জামানত বিহীনভাবে প্রদান
করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যদি ৩ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকা
পর্যন্ত ঋণের সহজ জামানত গ্রহণ করা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
আমরা ইতিমধ্যেই ওপরে উল্লেখ করেছি যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বা ব্যাংকে যদি
ঋণ পেতে আগ্রহী হন সে ক্ষেত্রে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে চাইলে আপনি
উপরে ভালোভাবে পড়ে দেখে নিতে পারেন।
যোগাযোগ: আপনি ঋণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে
জানার জন্য আপনার নিকটস্থ ব্যাংকের শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণ সেহায়তা সেবা সম্পর্কে তাদের
ওয়েবসাইটে আপনি বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
সর্বশেষ তথ্য এবং শর্তাবলির জন্য আপনি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে
সরাসরি যোগাযোগ করুন।
ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় লোনের আবেদন
বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোন এর আবেদন প্রক্রিয়ার সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলোর
মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে নিচে তা উল্লেখ করা হলো:
1. উপযুক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন:
এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানকারী ব্যাংক বা অনলাইন
প্লাটফর্ম নির্বাচন করুন যারা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য লোন প্রদান করে থাকে।
উদাহরণস্বরপ-
- ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইত্যাদি তারা অনলাইন প্লাটফর্ম এর মাধ্যমেও ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম যথা বিকাশ, নগদ ইত্যাদি তারা তাদের ডিজিটাল ফিনান্সিং প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমেও লোন দিয়ে থাকেন।
- জাতীয় পরিচয় পত্র তথা NID
- আপনার ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স
- আপনার ব্যাংক হিসাব স্টেটমেন্ট (সাম্প্রতিক ছয় মাসের)
- TIN সার্টিফিকেট
- আপনার ব্যবসার নিবন্ধন সনদপত্র (যদি থাকে)
- এমনকি আপনার ব্যবসার আয়ের তথ্য
এক্ষেত্রে আপনি যে ব্যাংক বা প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে লোনের আবেদন করেছেন তাদের
ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ এ প্রবেশ করে অবশ্যই তাদের আবেদন ফরম ডাউনলোড করার
মাধ্যমে তা পূরণ করুন। ক্ষেত্রে সাধারণত যা যা উল্লেখ করতে হয় তা হলো-
- ব্যক্তিগত তথ্য
- আপনার ব্যবসায়িক তথ্যাদি
- আপনার লোনের পরিমাণ এবং উক্ত সময়কাল
আপনি আবেদন পত্র জমা দেওয়ার পর ব্যাংক বা উক্ত প্লাটফর্ম কর্তৃপক্ষ আপনার
আবেদনটি যাচাই-বাছাই করবে এবং আপনার আয়ের উৎস ব্যবসার তথ্য ক্রেডিট স্কোর
ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো এবং কাগজপত্রাদি মূল্যায়ন করবে।
5. লোন অনুমোদন এবং বিতরণ প্রক্রিয়া:
উদাহরণ স্বরূপ কিছু জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম সমূহ:
- বিকাশ (Bkash): আপনি জনপ্রিয় অনলাইন মাধ্যম বিকাশের মাধ্যমেও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য লোন এর আবেদন করতে পারেন।
- নগদ (Nagad): বর্তমান সময়ে নগ দ প্লাটফর্ম অনলাইন এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র লোনের সুবিধা প্রদান করছে।
- ব্যাংক এশিয়া স্মার্ট অ্যাপ: উক্ত ডিজিটাল platform টি ডিজিটাল ব্যাংকিং এর জন্য বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।
লেখকের শেষ মন্তব্য
সর্বোপরি এটাই বলা চাই বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে সরকারি সহায়তায় ক্ষুদ্র
ব্যবসার জন্য লোন পাওয়া এখন আগে চেয়ে অনেক সহজ। এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলো
বিভিন্ন সংস্থা ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে বিভিন্ন ধরনের ঋণ স্কিম চালু করেছে
ইতিমধ্যে। এজন্য আপনার সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং আবেদন করার জন্য
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ইত্যাদি। ব্যবসায় সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের জন্য
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ খুবই কার্যকরী একটি মাধ্যম বা উপায়।
আশিক টেক আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন প্রতিটা কমেন্টে রিভিউ করা হয় নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url